• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

সিফাত হত্যা: মেলেনি আত্মহত্যার আলামত

Rajshahi-Sifat-Murder-Follow-BMরাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের দ্বিতীয় দফা ময়না তদন্তে মেলেনি আত্মহত্যার আলামত। লাশের মাথার পেছনে ডান দিক থেকে বাম দিক পর্যন্ত বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছিল বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে কবর থেকে সিফাতের লাশ উত্তোলনের পর রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড দ্বিতীয় দফা ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। তবে ভিসেরা রিপোর্ট না আসায় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।

রোববার কোর্ট ইন্সপেক্টর আবুল হাশেম জানান, সিফাতের দ্বিতীয় দফায় করা ময়নাতদন্তের একটি রিপোর্ট গত বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে তার হাতে এসে পৌঁছেছে। তবে এতে সিফার হত্যার মৃত্যুর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে ভিসেরা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সিফাতের মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে না।

দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে সিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি জানান, দ্বিতীয় দফায় করা ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে, এই অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে, সিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় দফায় করা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও তার হাতে আসেনি। রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানান তিনি।

সিফাত হত্যা মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ জুন রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জয়ন্ত রাণী দাশ সিফাতের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।

আদালত রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা সিফাতের লাশ উত্তোলন করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে কমিটি করে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি জানান, ভিসেরা রিপোর্ট না পেয়েই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি করে সিফাতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়ায় বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের এই আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২১ জুন রংপুরের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থান থেকে সিফাতের লাশ উত্তোলন করে। পরদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। বোর্ডের তিন সদস্যের মধ্যে ছিলেন সহযোগি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. হরেন্দ্রনাথ গোস্বামী। অপরজনের নাম জানাতে পারেননি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতকে। পাঁচ বছর আগে সিফাত ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন মোহাম্মদ হোসেন রমজানের ছেলে মো. আসিফকে। বেকার আসিফ ব্যবসা করার জন্য সিফাতের বাবার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে তাকে চাপ দেয়। এতে সিফাত রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন তার ওপর চলতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নগরীর রাজপাড়া থানায় দায়ের করা মামলায় এমনই অভিযোগ করেন ওয়াহিদা সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা এই মামলায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন- সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী।

রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি তদন্তে সফল না হওয়ায় মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির অফিসার ইনচার্জ খন্দকার জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শকের মনিটরিং সেল মামলাটি তদারকি করছে। তিনি জানান, সিফাতের স্বামী মো. পিসলি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং মামলার অপর দুই আসামি সিফাতের পলাতক শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করার চেষ্টা চলছে।

বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ